শ্রাবন মাস ভগবান ভোলেনাথ শিবের মাস । এই মাসে সঠিক বিধি বিধানের সাথে ভগবান শিবের উপাসনা করলে ভগবান শঙ্কর সমস্ত ইচ্ছে বা মনোকামনা পুরন করে দেয় । যদি ভগবান শিব কে প্রসন্ন করতে হয় তাহলে শ্রাবন মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় আর নেই । এই ক্ষণের জন্য আর এই পুন্য সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকে । এই মাসের আধ্যাত্ম অনুভুতি আলাদা । শিব মহিমা অপার তিনি প্রসন্ন হলে কুবেরের মত দেবতা দের কোষ অধ্যক্ষ বানিয়ে দিতে পারেন , অশ্বিনী কুমার আয়ুরবেদ শাস্ত্রের অধিকারি , অথবা শনি দেব কে তিনি ন্যায় দণ্ডের অধিকারী বানিয়ে মানুষের কর্ম ফল বিচার করার অধিকার দিয়েছেন ।
যারা শিবের সাধনা করেন মহামৃত্যুঞ্জয় স্বরুপ শিব ভীষণ ভীষণ রোগ শোক থেকে মানুষ কে মুক্তি দেয় । তারা শিবত্ব লাভ করে । ভগবান শিব কে রসেশ্বর বলা হয় । প্রতীক রুপে ভগবান শিব গঙ্গার তেজ প্রবাহ নিজের জটা তে ধারন করেছিল , তার শরীরের থেকে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা সারা ভারতের জীবনে প্রবাহিত হয়ে ভারতবর্ষ সবুজ সুজলা সুফলা তে পরিণত করেছে । গঙ্গা প্রবাহ শেষ হয় না , এটা স্পষ্ট ভগবান শিবের অভিষেক করা জল পুরো জীবন আপ্লাবিত করে আমাদের । গঙ্গা কখন নর্মদা , কখন ভাগীরথী , কখন হুগলী কখন পদ্মা , এই প্রকার বিভিন্ন ধারা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে বিলীন হয়ে পড়ে । ঠিক সেই রকম মানুষের জীবনে প্রবাহ মান গতিশীল হয়ে মানুষ কে সুখ প্রদান জীবনে পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়ে মোক্ষ লাভ করে । লৌকিক জগতে ভগবান শিব কে সংহার শক্তির নিয়ামক মনে করা হয় । শিব পরিবারের অঙ্গ হিসাবে ভুত প্রেত , সর্প , বিচ্ছু ,কুকুর , কে আমরা দেখি । ষাঁড় আরোহী ভগবান শিব কে মহাকাল রুপে পুজিত হন । জটা মুকুট , মাথায় দ্বিতীয়ার ্চন্দ্র , তৃতীয় নেত্র , নাগ যজ্ঞ উপবিত । শিব মানুষ , পশু , পক্ষী ,দেব দানব , এর সংযুক্ত উপাস্য । ভগবান শিবের উপাসনা কারী সাধক তার জীবনে নিরাশ হয় না । যদি কোন ব্যক্তি শিব কে আদর্শ করে চলে তাহলে ভগবান শিব তাকে সর্ব সুখ যুক্ত জীবনে নিয়ে যায় । মন কামনা সিদ্ধি প্রয়োগ ঃ শ্রাবন মাসে চার টি সোমবার আর চারটি দিন নিজে থেকে অদ্বিতীয় ক্ষণ । এই সোমবারে আপনার করা উপাসনা ও সাধনা করলে বিশেষ ফল প্রাপ্ত হয় । এই সময়ে করা প্রয়োগ শীঘ্র ফল প্রাপ্তি হয় । ১ ম সোমবার ২য় সোমবার ৩ য় সোমবার ৪ থ সোমবার
জীবনের সমস্ত দুঃখ ব্যাথা জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ভগবান শিবের স্মরণ ও তার কৃপা পাবার জন্য জন্ম মৃত্যু রোগ শোকের হাত থেকে বাচতে গেলে ভগবান শিবের আশ্রয় নেওয়া উচিত । অসাধ্য
রোগের হাত থেকে অথবা মৃত্যুতুল্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের শাস্ত্রে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রকে সঞ্জীবনী মন্ত্র জপ করার বিধান আছে । এই মন্ত্রের মুল বা লঘু মন্ত্র আছে ।
মৃত সঞ্জবিনি মন্ত্রের বা বিদ্যার আচার্য দৈত্য গুরু শুক্রাচার্য । এক রাজা মহর্ষি দধীচি বজ্রের দ্বারা আঘাত করেন তখন মরনাপ্ন দধীচি দৈত্য গুরু স্মরনাপন্ন হন । তখন দৈত্য গুরু শুক্রাচার্য তার খণ্ডিত দেহ জুড়ে আর মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র শিখিয়ে চলে গেলেন । শিব ভক্ত শুক্রাচার্য এর নির্দেশ অনুসারে মহর্ষি দধীচি বিধি পূর্বক জপ যোগের দ্বারা তিনি ভগবান শিব কে প্রসন্ন করেন ।
দেব দানবের যুদ্ধে মরে যাওয়া দৈত্য দের বাচিয়ে দিতেন মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ তাদের পুনজীবিত করে তুলতেন ।
নিম্ন মন্ত্র টি
অকাল মৃত্যু , সমস্ত রোগ , বিপদ থেকে মুক্তি আমরা পেতে পারি । যদি মহাকাল ভগবান শিবের স্মরণ নিই তাহলে তিনি আমাদের সমস্ত সমাধান করে দেবেন । এই বিশ্বাস থেকে সাধনা করবেন ।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ যদি দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গ মন্দির রে সর্ব উত্তম । তা যদি না হয় প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে বা পবিত্র জায়গায় পারদ শিব লিঙ্গ সামনে জপ করতে হবে ।
জপ করার সময় মহামৃত্যুঞ্জয় শিবের ধতুরা , আকন্দ ,প্রভৃতি ফুলে পুজা করতে হয় । পুজার সময় লাল বা পীত বস্ত্র পরিধান করতে হয় । মহামৃত্যুঞ্জয় শিবের পুজা তে অবশ্যি বেল পাতা , দুধ , দই , মধু ,ঘি উৎসর্গ করতে হয় ।
ভোজন ঃ সাধক মধ্যাহ্নে দুধ , চা , ফল আদি ভোজন করবেন রাত্রিতে আতপ চালের ভাত ,খির , ছোলার ডাল , শাক সব্জি , লুচি খেতে পারেন । সন্ধক লবণ ব্যবহার করা উচিত ।
জপ বিধান ঃ রাষ্ট্রের রক্ষা , নিজের রক্ষা , ব্যাধি থেকে মুক্তি , অভীষ্ট সিদ্ধি , সন্মান ,ধন প্রাপ্তি , সওয়া লক্ষ জপ করতে হবে ।
সাধনা বিধান ঃ জপ আরম্ভ করার আগে সঙ্কল্প করুন , পবিত্র ভাবে " ওঁ হরায় নমঃ ,ওঁ মহেশ্বরায় নমঃ , শূলপানয়ে নমঃ "
বিধি বিধান মত পুজা শুরু জল শুদ্ধি , পুস্প শুদ্ধি আচমন , ন্যাস , আসন শুদ্ধি করে শিব লিঙ্গের উপর জল , পঞ্চামৃত , অক্ষত , বেল পত্র , পুস্প , ধুপ দীপ ,নৈবেদ্য্ উৎসর্গ করবেন ভগবান শিবকে ।
ধ্যান ঃ
মস্তকে চন্দ্র বিরাজিত , সমস্ত দেবতার স্বামী অবিনাশি পশুপতি শ্রী ভগবান মৃত্যুঞ্জয় শিব স্মরণ করি ।
এই প্রকার ধ্যান করতে করতে মানস উপাচারে মৃত্যুঞ্জয় শিবের সাধনা করতে হয় ।
বেদ ,পুরান , স্মৃতি , তথা সমস্ত ধর্ম গ্রন্থে শিব কে জ্ঞান , ভক্তি , মুক্তির দেবতা বলা হয় । তাকে ভক্তি তে ভক্তের সব কিছু প্রাপ্ত হয় । শিব পুরান আনুসারে ভগবান শিব পরিবার কে পূজা অর্চনা করলে ভক্তের দুর্লভ বস্তুু লাভ করে ।
সত্য মনে ধ্যান মগ্ন হয়ে ইষ্ট দেবতার আরাধনা করুন আর পরম পিতা পরমাত্মার আশ্রয় প্রাপ্তি চেষ্টা
ও তার কাছ থেকে প্রাপ্তি জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে । মন বাঞ্ছিত ফল পেতে হয়ত সময় লাগতে পারে কিন্তু অসম্ভব নয় । ইষ্টের আরাধনা করলে আস্তে আস্তে আপনার মধ্যে এক শক্তি জাগ্রত হতে থাকে । এই শক্তি যা পঞ্চ জ্ঞান ইন্দ্রিয় দিয়ে ভুত , ভবিসৎ আর বর্তমান জানার শক্তি নিহিত । এই শক্তি কে আমরা অতীন্দ্রিয় শক্তি বলতে পারি ।
আর এই শক্তি জাগ্রত হলে আপনি ভুত ভবিসৎ বর্তমান কে জানতে সক্ষম হবেন ।আপনি আপনার বুদ্ধি ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে আপনার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে । আমারাআবার দেখতে পায় কারো কারো জন্ম থেকে এই শক্তি থাকে ।যদি আপনি আপনার অতীন্দ্রিয় শক্তি কে জাগাতে চান তাহলে সত্য ও নিষ্ঠার সাথে আপনার ইষ্টের সাধনার লেগে থাকুন । শুধু পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সমর্পণ দিয়ে সম্ভব । আবশ্যক নয় কিছু দিনের মধ্যে আপনি এই শক্তি অর্জন করে ফেলবেন । তবে এটা সত্য আপনার প্রয়াসের ফল অবশ্যই আপনার প্রাপ্তি হবে । এই জন্মে না হলে অন্য জন্মে অবশ্য আপনি এই ফল পাবেন । যেরকম আমরা আগামী ভবিসৎ এর জন্য সুরক্ষার প্রয়োজনে ধন জমা করি তেমনি নিজের সৎ কর্মের দ্বারা জন্ম জন্মান্তর রের জন্য সুখময় জীবন গড়ে তুলতে পারি । নিষ্কাম ভাবে নিজের ইষ্ট কে আরাধনা করলে কিছু দিনের মধ্যে আপনার অতিন্দ্রিয় শক্তি জাগ্রত হয়ে যায় । সে তার সুখ দুঃখ ভাল মন্দ আগে থেকে অনুভব করতে পারে এবং সে যাকে যা বলবে তা সত্য হয়ে যায় ।